
ঢাকা:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও পেশাদার মাস্টার প্ল্যানের অংশ—এমনটাই মনে করছেন তদন্তে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।
দিনেদুপুরে রাজধানীর ব্যস্ত রাজপথে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয় হাদির ওপর। হামলার আগে ও পরে অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত ১২৫ বার মোবাইল যোগাযোগ হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ গুলির পরপরই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে একের পর এক বাহন ও মোবাইল পরিবর্তন করে ঢাকা থেকে সাভার-ধামরাই হয়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে যায়।
গোয়েন্দাদের ধারণা, এই হত্যাচেষ্টার পেছনে একটি শক্তিশালী ও বিস্তৃত অপরাধ নেটওয়ার্ক কাজ করেছে, যাদের সহায়তা ছাড়া এত দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব নয়। তদন্তে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টতার তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী ইসলামি দলের কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে একাধিক সংস্থা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার আইটি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’-এর সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এনবিআর। সন্দেহভাজনদের ধরিয়ে দিতে সরকার ঘোষণা করেছে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার।
অন্যদিকে, ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরীফ ওসমান হাদি এখনও ডিপ কোমায় রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মস্তিষ্কে ফোলা বেড়েছে এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে হাদির চিকিৎসকদের দাবি, ভারতীয় নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত নম্বর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হত্যাচেষ্টার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।